ডিমেনশিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসা

১. ভূমিকা

আমি জানি, ডিমেনশিয়া একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি। এটি কেবল যিনি আক্রান্ত হন, তাঁর জন্যই নয়, পুরো পরিবারের জন্যও হৃদয়বিদারক। স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, ব্যবহার বদলে যাওয়া, প্রিয়জনদের চিনতে না পারা—এসব দেখে মানসিক কষ্ট হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি অন্য কোনো উপায় খোঁজেন, যা হয়তো কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারে, জীবনের মান উন্নত করতে পারে।

একজন হোমিওপ্যাথ এবং স্বাস্থ্য ব্লগার হিসেবে, আমি আমার ৭ বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে মানুষ প্রায়শই দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক চিকিৎসা বা সহায়ক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে চান। এই লেখায়, আমি আপনাদের সাথে ডিমেনশিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসা বা আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে, ডিমেনশিয়ার সহায়ক যত্নে হোমিওপ্যাথির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি। আমরা দেখব কীভাবে হোমিওপ্যাথি ডিমেনশিয়ার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ যেমন স্মৃতিশক্তি হ্রাস, উদ্বেগ, অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যার মতো কষ্টকর বিষয়গুলো ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করতে পারে।

এই নির্দেশিকায় আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করব। আমরা জানব ডিমেনশিয়া আসলে কী, এর প্রধান লক্ষণগুলো কী কী এবং প্রচলিত চিকিৎসা কী বলছে। এরপর আমরা হোমিওপ্যাথির মূল নীতিগুলো সহজভাবে বুঝব এবং দেখব কীভাবে এই নীতিগুলো ডিমেনশিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। আমরা ডিমেনশিয়ার বিভিন্ন লক্ষণ অনুযায়ী কিছু সম্ভাব্য হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার বা হোমিওপ্যাথি ওষুধ নিয়েও আলোচনা করব (তবে মনে রাখবেন, এটি কোনো প্রেসক্রিপশন নয়!)। এছাড়াও, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্য এর জন্য জীবনযাত্রা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য এর গুরুত্ব কতটা, তা নিয়েও কথা বলব। আর সবশেষে, হোমিওপ্যাথির সীমাবদ্ধতাগুলো কী এবং কখন প্রচলিত চিকিৎসা নেওয়া অপরিহার্য, সে বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা দেব। আমার উদ্দেশ্য হলো আপনাদের একটি নির্ভরযোগ্য এবং ব্যবহারযোগ্য গাইড দেওয়া, যাতে আপনারা ডিমেনশিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।


২.১. ডিমেনশিয়া কী? এর লক্ষণ এবং প্রচলিত চিকিৎসা

ভূমিকার পর, এবার আসুন আমরা মূল আলোচনা শুরু করি। প্রথমেই পরিষ্কার করে নিই যে আমরা আসলে কী নিয়ে কথা বলছি। ডিমেনশিয়া শব্দটি আপনারা অনেকেই শুনেছেন, কিন্তু এর সঠিক অর্থ হয়তো অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেক রোগী বা রোগীর পরিবার যখন প্রথম এই সমস্যা নিয়ে আসেন, তখন তাঁদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ডিমেনশিয়া কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়। বরং এটি হলো কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গের একটি সমষ্টি, যা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতির কারণে ঘটে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। ভাবতে পারেন, এটি যেন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলার একটি প্রক্রিয়া। আলঝেইমার্স রোগ ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত কারণ, কিন্তু এর বাইরেও ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া, লেভি বডি ডিমেনশিয়া বা ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মতো আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং সময়ের সাথে সাথে খারাপ হতে থাকে। এই লক্ষণগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে কিছু সাধারণ বিষয় প্রায়শই দেখা যায়। একজন স্বাস্থ্য ব্লগার হিসেবে আমি সবসময় চেষ্টা করি বিষয়গুলো যতটা সম্ভব সহজ করে বোঝাতে, তাই আসুন প্রধান লক্ষণগুলো দেখে নিই:

  • স্মৃতিশক্তি হ্রাস: এটিই হয়তো ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনা মনে রাখতে খুব অসুবিধা হয়। যেমন, সকালে কী খেলেন, কিছুক্ষণ আগে কী কথা হলো, বা কোথায় কী রেখেছেন – এসব মনে করতে সমস্যা হয়। পুরনো স্মৃতি হয়তো কিছুটা ঠিক থাকে initially, কিন্তু নতুন কিছু মনে রাখা বা শেখা কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় প্রিয়জনদের নাম মনে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে, যা খুবই কষ্টদায়ক। এই স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা স্মৃতিভ্রম দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।
  • চিন্তা, যুক্তি এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা হ্রাস: সহজ কাজগুলো করতেও সমস্যা হতে পারে। যেমন, টাকা পয়সার হিসাব রাখা, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
  • ভাষা ব্যবহারে অসুবিধা: কথা বলতে বা অন্যদের কথা বুঝতে সমস্যা হতে পারে। সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা হয়, বা কথা বলতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যায়।
  • পরিচিত স্থান বা মুখ চিনতে অসুবিধা: নিজেদের বাড়ি বা পাড়ার মতো পরিচিত জায়গায় হারিয়ে যেতে পারে, বা প্রিয় মানুষদের চিনতে সমস্যা হতে পারে।
  • মেজাজ বা আচরণগত পরিবর্তন: হঠাৎ করে মেজাজ খারাপ হওয়া, উত্তেজিত হয়ে পড়া, অস্থিরতা বা বিষণ্ণতা দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ। অনেক সময় অযথা সন্দেহ বা অবিশ্বাসও কাজ করে।
  • ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন: আগে যিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন, তিনি হয়তো হঠাৎ করে খুব জেদী বা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারেন।
  • দৈনন্দিন কাজকর্মে অক্ষমতা: 옷 পরা, खाना খাওয়া বা পরিষ্কার পরিছন্ন থাকার মতো সাধারণ কাজগুলো করতেও অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।

এই লক্ষণগুলো যখন তীব্র আকার ধারণ করে এবং দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তখনই আমরা ডিমেনশিয়া সিনড্রোমটির কথা বলি।

ডিমেনশিয়ার মূল কারণ হলো মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি। এই ক্ষতি বিভিন্ন রোগের কারণে হতে পারে, যেমন আলঝেইমার্সে মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক প্রোটিন জমা হওয়া, বা ভাস্কুলার ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্ত ​​প্রবাহ কমে যাওয়া।

এবার আসি প্রচলিত চিকিৎসার কথায়। যখন এই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়, তখন একজন প্রচলিত চিকিৎসক (যেমন একজন নিউরোলজিস্ট বা জেরিয়াট্রিশিয়ান) বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করেন। এর মধ্যে মস্তিষ্কের স্ক্যান (CT বা MRI), রক্ত পরীক্ষা বা কগনিটিভ টেস্ট থাকতে পারে।

প্রচলিত চিকিৎসায় সাধারণত রোগের অগ্রগতি ধীর করার জন্য বা নির্দিষ্ট লক্ষণ যেমন স্মৃতিশক্তি, আচরণগত সমস্যা বা ঘুমের সমস্যা কমানোর জন্য কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এর পাশাপাশি, কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি বা অকুপেশনাল থেরাপির মতো থেরাপিগুলোও রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে, এটা মনে রাখা জরুরি যে প্রচলিত চিকিৎসাও সাধারণত ডিমেনশিয়াকে সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করতে পারে না, বরং এটি রোগের লক্ষণগুলো ব্যবস্থাপনার উপর জোর দেয় এবং রোগীর ও তার যত্নশীলদের জীবন সহজ করার চেষ্টা করে। বয়স্কদের স্বাস্থ্য এবং তাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক যত্ন এবং সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিভাগে আমরা ডিমেনশিয়া এবং এর প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানলাম। পরবর্তী অংশে আমরা হোমিওপ্যাথির মূলনীতি এবং ডিমেনশিয়া চিকিৎসায় এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করব।


৩. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

এতক্ষণ আমরা ডিমেনশিয়া, এর লক্ষণ এবং ডিমেনশিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আমি জানি আপনাদের মনে এই বিষয়ে আরও অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। আমার ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এবং ব্লগিংয়ের অভিজ্ঞতায় কিছু সাধারণ প্রশ্ন প্রায়শই উঠে আসে। এখানে আমি সেগুলোরই কিছু উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে আপনাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ে এবং এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।

  • প্রশ্ন ১: হোমিওপ্যাথি কি ডিমেনশিয়া সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলতে পারে?
    • উত্তর: দেখুন, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এবং হোমিওপ্যাথি নীতি অনুযায়ীও আমরা জানি যে হোমিওপ্যাথি ডিমেনশিয়ার মতো মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতির কারণে হওয়া রোগকে তার মূল থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় করার দাবি করে না। ডিমেনশিয়া একটি প্রগতিশীল অবস্থা যেখানে মস্তিষ্কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হোমিওপ্যাথি মূলত রোগের বিভিন্ন কষ্টকর লক্ষণ যেমন উদ্বেগ, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, বিরক্তি বা স্মৃতিশক্তি হ্রাস ব্যবস্থাপনায় একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি রোগীর সামগ্রিক সুস্থতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার চেষ্টা করে, কিন্তু underlying pathological damage repair করে না।
  • প্রশ্ন ২: ডিমেনশিয়ার জন্য কোন হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সবচেয়ে ভালো?
    • উত্তর: হোমিওপ্যাথিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগের জন্য একটি মাত্র “সেরা” হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নেই। এটিই হোমিওপ্যাথির অন্যতম প্রধান নীতি – ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য। অর্থাৎ, প্রতিটি রোগীর শারীরিক, মানসিক এবং আবেগিক লক্ষণগুলোর সম্পূর্ণ চিত্র বিশ্লেষণ করে তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার নির্বাচন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কারো স্মৃতিশক্তি হ্রাসর সাথে যদি উদ্বেগ থাকে, তার জন্য একটি ওষুধ লাগতে পারে, আবার অন্য কারো যদি স্মৃতিভ্রমর সাথে বিরক্তি বা আগ্রাসন থাকে, তার জন্য হয়তো অন্য ওষুধ লাগবে। তাই, একজন যোগ্যতাসম্পন্ন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ নির্বাচন করা উচিত নয়।
  • প্রশ্ন ৩: প্রচলিত ওষুধের সাথে কি হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়া যায়?
    • উত্তর: হ্যাঁ, সাধারণত প্রচলিত ওষুধের সাথে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খাওয়া নিরাপদ বলে মনে করা হয়। কারণ এদের কার্যপদ্ধতি ভিন্ন এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র মাত্রায় তৈরি হয়। তবে, আমি সবসময় এই ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে বলি। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুরু করার আগে এবং প্রচলিত ওষুধ সেবন করার সময়, আপনার প্রচলিত চিকিৎসক (যিনি ডিমেনশিয়ার চিকিৎসা করছেন) এবং আপনার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক উভয়কেই আপনার সমস্ত ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। কোনো প্রচলিত ওষুধ নিজে নিজে বন্ধ করবেন না বা ডোজ পরিবর্তন করবেন না। সমন্বিতভাবে চিকিৎসা করাই সবচেয়ে ভালো।
  • প্রশ্ন ৪: ডিমেনশিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসা শুরু করতে কত খরচ হতে পারে?
    • উত্তর: ডিমেনশিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসার খরচ নির্ভর করে আপনি কোন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন এবং রোগীর অবস্থার উপর ভিত্তি করে কতটা চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে তার উপর। সাধারণত, প্রচলিত চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদী খরচের তুলনায় হোমিওপ্যাথিক ওষুধের খরচ কম হতে পারে। তবে, মনে রাখতে হবে, কার্যকারিতা এবং প্রত্যাশা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কেবল কম খরচের জন্য নয়, বরং এটি রোগীর লক্ষণ ব্যবস্থাপনায় কতটা সহায়ক হতে পারে, সেই দিকটি বিবেচনা করা উচিত।
  • প্রশ্ন ৫: ডিমেনশিয়ার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুরু করার আগে আমার কী জানা উচিত?
    • উত্তর: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্য সচেতনতা রাখা এবং বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা। আপনার জানা উচিত যে হোমিওপ্যাথি ডিমেনশিয়ার অন্তর্নিহিত রোগ নিরাময় করতে পারে না, এটি মূলত লক্ষণ ব্যবস্থাপনার একটি সহায়ক পদ্ধতি। আপনাকে অবশ্যই একজন প্রচলিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ডিমেনশিয়ার প্রচলিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সবসময় একজন যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত। হোমিওপ্যাথি নীতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা রাখলে আপনার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। মনে রাখবেন, আপনার প্রিয়জনের জন্য সেরা সমন্বিত যত্ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাদের কিছুটা হলেও সাহায্য করবে বলে আমি আশা করি। মনে রাখবেন, যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য সঠিক পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।


৪. উপসংহার

এতক্ষণ আমরা ডিমেনশিয়া রোগের জটিলতা, এর বিভিন্ন লক্ষণ, প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ডিমেনশিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসা কীভাবে একটি সহায়ক বা পরিপূরক ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আমি আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছি, ডিমেনশিয়া কেবল একটি শারীরিক বা মানসিক সমস্যা নয়, এটি একটি সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ যা রোগী এবং তার পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ডিমেনশিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রগতিশীল অবস্থার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি এখানে অপরিহার্য এবং জীবন রক্ষাকারী হতে পারে। এর পাশাপাশি, ডিমেনশিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসা সরাসরি রোগ নিরাময় না করলেও, এটি ডিমেনশিয়ার সাথে আসা বিভিন্ন কষ্টকর লক্ষণ যেমন উদ্বেগ, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, বিরক্তি বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসর মতো বিষয়গুলো ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। হোমিওপ্যাথির প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য enfoque রোগীর জীবনী শক্তিকে সমর্থন করে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করার একটি মৃদু উপায় হতে পারে।

তবে, আমি সবসময় জোর দিয়ে বলি, স্বাস্থ্য সচেতনতা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বা আপনার প্রিয়জনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে তথ্যের সঠিক ব্যবহার অপরিহার্য। হোমিওপ্যাথি ডিমেনশিয়ার অন্তর্নিহিত মস্তিষ্কের ক্ষতিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে না, এটি মূলত লক্ষণের উপশমের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই, কখনোই প্রচলিত চিকিৎসা বাদ দিয়ে কেবল হোমিওপ্যাথির উপর নির্ভর করা উচিত নয়। সর্বদা একজন যোগ্যতাসম্পন্ন প্রচলিত চিকিৎসক (যেমন নিউরোলজিস্ট বা জেরিয়াট্রিশিয়ান) এবং একজন নিবন্ধিত ও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। সমন্বিত যত্নের মাধ্যমেই আমরা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের জন্য সেরাটা নিশ্চিত করতে পারি।

আপনি বা আপনার প্রিয়জন যদি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন এবং হোমিওপ্যাথিক সহায়ক যত্ন সম্পর্কে আগ্রহী হন, তবে আমি আপনাকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করার জন্য উৎসাহিত করব। তিনি রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ এবং সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।

ডিমেনশিয়া এবং এর যত্ন সম্পর্কে আরও জানতে আমাদের অন্যান্য নিবন্ধগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন। আপনার অভিজ্ঞতা বা এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে মন্তব্য বিভাগে জানাতে পারেন। আপনাদের মতামত সবসময় মূল্যবান। আসুন, আমরা সবাই মিলে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করি এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত প্রিয়জনদের পাশে দাঁড়াই।


<strong>Dr. Sheikh Abdullah</strong>Leading <strong>homeopathic doctor in Dhaka</strong>, founder of <a href="https://genetichomeo.com" target="_new" rel="noopener">GeneticHomeo.com</a>. Specialized in <strong>chronic disease treatment, diabetes, hypertension, arthritis</strong>, and <strong>holistic healthcare</strong>. Passionate about natural healing, community health, and training future homeopaths.

Expertises: HOMEOPATHY, ALTERNATIVE MEDICINE

Leave a Comment